Published : 09 Jul 2026, 04:06 AM
মাঠের উত্তেজনা চরমে, কিন্তু দর্শকের দৃষ্টি স্থির হয়ে গেছে এক কিংবদন্তির দিকে—লিওনেল মেসি। ফুটবলের ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত থাকে, যা কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে মাপা যায় না; সেগুলো হয়ে ওঠে এক অমর গল্প। ডালাসে আর্জেন্টিনার ৩-১ জয়ের এই ম্যাচও তেমনই এক কিংবদন্তির আখ্যানের অংশ। প্রতিপক্ষ ছিল জর্ডান, কিন্তু আসল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সময়, ইতিহাস এবং 'আর কতদূর?' এই প্রশ্ন। ম্যাচের শুরুতেই আর্জেন্টিনা যেন নিজেদের অতীতের ছায়া নিয়ে মাঠে নেমেছিল। একাধিক পরিবর্তনে প্রথম একাদশ অনেকটাই রিজার্ভ বেঞ্চের মতো। তবুও খেলার ছন্দে কোনো ঘাটতি নেই। ১৯ মিনিটে জিওভান্নি লো সেলসোর বাঁ পায়ের ফ্রি-কিক, যা ছিল এক বাঁকানো কবিতার মতো। বল দেয়াল পেরিয়ে গোলপোস্টের কোণে প্রবেশ করল যেন পূর্বনির্ধারিত ছিল। এরপর লাওতারোর ঠান্ডা মাথার পেনাল্টি গোল। স্কোরলাইন দাঁড়াল ২-০।
সবকিছু যেন নিয়মের বেড়াজালে চলছে। জর্ডান ইতিমধ্যেই বিদায় নিশ্চিত করেছে। তবে ফুটবল কখনো পুরোপুরি আনুষ্ঠানিক হয় না। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জর্ডানের পাল্টা আঘাত আসে মুসা আলতামারির গোলে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে গোল করেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এই মুহূর্তটি দর্শকদের মধ্যে এক নতুন সংশয় সৃষ্টি করে। এরপরই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এক ঘণ্টাখানেক পর বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়ান মেসি। স্টেডিয়ামের গর্জন তখন আর শব্দ নয়, তা এক বিশাল ঢেউ হয়ে ওঠে, যা অনুভব করা যায়। তিনি মাঠে নামলেন ধীরেসুস্থে, যেন সময় এখন তার হাতে। ৮০ মিনিটের মাথায় ফ্রি-কিকের সুযোগ আসে, দূরত্ব প্রায় পঁচিশ মিটার।
এই দৃশ্য আমরা বহুবার দেখেছি, তবুও প্রতিবারই নতুন লাগে। তিনি শট নিলেন—নিচু, নিখুঁত এবং হিসেবী। বলটি দেয়ালকে কাটিয়ে গোলকিপার ইয়াজিদ আবুলাইলার ভুলকে শাস্তি দিয়ে জালে জড়িয়ে দিল। রেকর্ড গড়ার দিনে বিশ্বকাপে নতুন এক মাইলফলক—মেসির ১৭টি গোল। টানা সাতটি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার এই কৃতিত্ব ফুটবলের ইতিহাসে বিরল। তিনি ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন বা ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোর মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেললেন। এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ইতিমধ্যেই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে এবং গ্রুপ জয় নিশ্চিত। নকআউটের পথে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি এই ৩-১ জয় কেবল তিন পয়েন্টের হিসাব নয়; এটি এক শক্তিশালী বার্তা বহন করে—ইতিহাসের জন্য, ভবিষ্যতের জন্য এবং কিংবদন্তিদের জন্য। কারণ ইতিহাস কেবল ফলাফল নয়, তা প্রতিটি মুহূর্তকে মনে রাখে। লো সেলসোর ফ্রি-কিক ছিল নিখুঁত, মার্তিনেসের পেনাল্টি ছিল নিশ্চিত, কিন্তু মেসির গোল ছিল অনিবার্য—যেন এই গল্পের প্রতিটি পাতায় তার নাম লেখা ছিল।।
অন্যায়! মেসিকে বিশ্বকাপে ধরে রাখতে চেয়েছিল তারা—ম্যাচ শেষে মিসর কোচের বিস্ফোরক অভিযোগ